• Home
  • All News
  • মির্জাপুরে গৃহবধূর বিবস্ত্র ভিডিও ও ছবি তুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মির্জাপুরে গৃহবধূর বিবস্ত্র ভিডিও ও ছবি তুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সোলায়মান, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ 


টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবস্ত্র ভিডিও ও আপত্তিকর ছবি ভাইরালের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম মঞ্জুর রহমান (২৬)। তিনি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে ওই যুবক এলাকাতেই দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে লোক লজ্জার ভয়ে তিনি ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানা গেছে। এমনকি ন্যায় বিচার না পেয়ে এবং লোক লজ্জার ভয়ে আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছেন এই ঘটনার শিকার অসহায় গৃহবধূ। এ ঘটনায় সুবিচার না পেয়ে ওই গৃহবধূ শিশু সন্তান নিয়ে স্বামী সংসার থেকে বাবার বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রাম্য মাতাব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচারের আশায় কোন সমাধান না পেয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।


প্রতারণার শিকার প্রবাসীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর ছেলে মঞ্জুর রহমানের কুনজর পড়ে তার ওপর। মঞ্জুর তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখাতেন। একপর্যায় ওই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান ওই গৃহবধূ। এভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়িতে গিয়ে কৌশলে বিবস্ত্র করে ভিডিও ও ছবি তুলে নেয় ওই যুবক। পরে গৃহবধূ কৃতকর্মের ভুল বুঝতে পেরে তার পথ থেকে মঞ্জুরকে সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে গৃহবধূর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন মঞ্জুর। এরপর গৃহবধূ কয়েক দফায় মঞ্জুরকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।কিন্তু এতেও মঞ্জুর ক্ষান্ত না হয়ে বিদেশে যাবার জন্য পুরো ৬ লাখ টাকা দাবি করেন ওই গৃহবধূর কাছে। এমনকি টাকা না দিলে সব ভিডিও ও ছবি ভাইরাল করে দেয়ার হুমকিও দেয় বলে জানান তিনি। তবে দাবীকৃত সেই টাকা দিতে রাজি না হলে প্রবাসে থাকা ওই গৃহবধুর স্বামীকে ভিডিও ও ছবির কথা বলে দেন মঞ্জুর। এই ভিডিও ও ছবি গৃহবধূর কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকেও ফেসবুকে পাঠানো হয়। এই অবস্থায় সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন গৃহবধূ। বিচার চেয়ে গ্রাম্য মাতাব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন তিনি। অবশেষে স্বামীর বাড়ি থেকে এক সন্তান নিয়ে বিতাড়িত হন।


প্রবাসীর স্ত্রী আরও জানান, ন্যায় বিচার চেয়ে প্রথমে মির্জাপুর থানায় মামলা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এবং এলাকার কয়েকজন মাতাব্বর গ্রামে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দেন। এতে কালক্ষেপন হওয়ায় পরে নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে মঞ্জুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর মঞ্জুর রহমান ও তার সহযোগীরা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি ও নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।


অসহায় গৃহবধূ, তার মা মালেকা বেগম, খালা আছমা বেগম ও ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম রফিক অভিযুক্ত মঞ্জুর রহমানকে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই ছবি-ভিডিও তিনি দেখেছেন বলে জানান। এরপর গ্রাম্য সালিশের তারিখ দেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই ওই গৃহবধূ টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।


মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রবাসীর স্ত্রী ও যুবক মঞ্জুর রহমানের প্রেমের সম্পর্কের কারণে আপত্তিকর অবস্থার বিবস্ত্র ছবি ভাইরাল হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গৃহবধূ আদালতে গিয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Most Read

Popular News