• Home
  • All News
  • ঋণ পেতেও যোগ্যতা লাগে

ঋণ পেতেও যোগ্যতা লাগে

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প গ্রুপ, সামাজিক সংগঠন সকলেই বহুবিধ প্রয়োজনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। বিশ্বের ধনী, দরিদ্র, ছোট, বড় সব দেশেই বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছল রাষ্ট্র, বা বানিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। রাষ্ট্র তার গৃহীত ঋণ দিয়ে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আমদানী ব্যয় নির্বাহ, বাজেট ঘাটতি মোকাবেলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। পরিমিত ঋণ নিয়ে তার সদ্ব্যবহার করতে পারলে যেকোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তরান্বিত করতে পারে। তাই পরিমিত ঋণ ও তার সর্বোত্তম ব্যবহার কখনো খারাপ কিছু নয়।

রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে তার উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধরা অব্যাহত রেখেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকার স্বাভাবিক ভাবেই অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আই.এম.এফ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। এই ঋণ চাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বিরোধী পক্ষ মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, ঋণ নেওয়ার স্বাভাবিক এই প্রচেষ্টাকে তারা দেশের অর্থনীতির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ বলে প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মাঝে দেউলিয়াত্বের অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দেশের বিরোধী পক্ষের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয় কোন দেশ ঋণ নিলেই কী দেউলিয়া হয়ে যায়? পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্র বা দেউলিয়া হয়নি এমন রাষ্ট্র গুলো কী ঋণ নেয়না? তাদের প্রশ্নের উত্তর কখনো ‘না’ বোধক হবেনা। তাহলে বাংলাদেশ ঋণ নিয়ে তার সদ্ব্যবহার করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখলে তাদের সমস্যা কোথায়?

বিশ্বের বড় পরিমাণের ঋণ গ্রহণকারী দেশ গুলোর দিকে থাকালে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই বড় অর্থনীতির উন্নত রাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, অস্ট্রলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইত্যাদি উন্নত রাষ্ট্র গুলোই সবচেয়ে বেশি ঋণ গ্রহণ করেছে। তার মানে এই দেশ গুলো কী দেউলিয়া হওয়ার পথে? উত্তর যদি ‘না’ হয়ে থাকে তাহলে মেনে নিতেই হবে এই সব দেশ নিজেদের চাহিদা মতো ঋণ নিয়ে তার পরিকল্পিত ব্যবহার করে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে যদি অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি লাভ করতে হয় ঋণ গ্রহণের বিকল্প কোন উপায় কী আছে? বিকল্প কোন উপায় যদি না থাকে তাহলে বিরোধীরা কী শুধু ঋণ নেওয়ার বিরোধিতা করেছে? নাকি সরকার ও রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছে?

কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র চাইলেই কী ঋণ পেয়ে যায়? ঋণ পেতে গেলে অবশ্যই সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে কিছু যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। তার মধ্যে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, ঋণ ব্যবহারের পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা, অতীতের ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা ইত্যাদি অন্যতম। যোগ্যতার মাপকাঠি পর্যালোচনা করে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সন্তুষ্ট হলেই কেবল কোন রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যাশিত ঋণ দিয়ে থাকে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আই.এম.এফ. এর শর্ত সমূহ অন্য যেকোনো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি জটিল। এইসব শর্ত মেনে কোন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বা ভঙ্গুর অর্থনীতির রাষ্ট্রের পক্ষে ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। আই.এম.এফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণ প্রত্যাশী রাষ্ট্রের ঋণের প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করে থাকে। ঐ রাষ্ট্রের আদো ঋণের প্রয়োজন আছে কি-না? আর্থিক ভাবে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে কি-না? অতীতের গৃহীত ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছিল কি-না? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর অনুকূলে হলেই তারা ঋণের আবেদন বিবেচনা করে থাকে।

বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশ উপরোক্ত যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আই.এম.এফ এর ঋণ পেলে সুষ্ঠু মস্তিষ্কের যে কেউ নিজ দেশের অর্থনীতি নিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সরকারকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে।


আবদুল মোমেন,
সোস্যাল একটিভিস্ট।

Most Read

Popular News