• Home
  • All News
  • আওয়ামী লীগ ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ শ্লোগানের অপব্যাবহারের বিরুদ্ধে

আওয়ামী লীগ ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ শ্লোগানের অপব্যাবহারের বিরুদ্ধে

‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ মুসলিমদের কাছে অত্যান্ত আবেগপূর্ণ শ্লোগান। কালের পরিক্রমায় উপমহাদেশে একত্ববাদে বিশ্বাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে শ্লোগানটি। ইসলামের এই শ্লোগানটি ধর্মীয় সমাবেশে সাধারণ মুসলমান দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করেন। ইসলামের বিরুদ্ধাচারণের প্রতিবাদেও বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় এই ধ্বনি। বর্তমান সময়ে শ্লোগানটি নিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সারা বিশ্বে মহান আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশে ব্যবহৃত শ্লোগানটি নিয়ে কেন আজকের অস্থিরতা?

বিএনপি’র চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমাবেশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর “নারায়ে তাকবির” শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার সূত্রপাত। রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া শ্লোগানে ধর্মান্ধ কিছু মানুষ খুশি হলেও নিজ দলের নেতারাই মেনে নিতে পারছেনা এমন অর্বাচীনতাকে। যে কারণে দলটির নেতারা স্লোগানটির সাথে একতম নন বলে বিবৃতি দিয়েছেন। বিএনপি কেন মুসলমানদের ভাবাবেগপূর্ণ শ্লোগানটি মেনে নিতে ভয় পাচ্ছেন? কখন থেকে এটি একটি বিতর্কিত শ্লোগান হিসাবে আবির্ভূত হল?

ধর্মীয় কর্মকান্ডে ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান দিলে কোন দলেরই কোন আপত্তি নেই। কিন্তু শ্লোগানটি যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসাবে ব্যবহৃত হয় তখনই যত ভয়! সময়ের পরিক্রমায় উপমহাদেশে কিছু ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দল শ্লোগানটিকে হাইজ্যাক করে। এর পর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের উপর ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান দিয়ে হামলা করতো পাকবাহিনী, এদেশীয় রাজাকার ও ধর্মান্ধ দলের কর্মীরা। এই শ্লোগান দিয়ে মানুষের ঘর বাড়িতে আগুন দেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো যখনই সুযোগ পেয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা চালাতে ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান ব্যবহার করেছে। শতশত বিরোধী রাজনৈতিক মতের কর্মীর রগ কাটার সাক্ষী এই শ্লোগান। ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ অপকর্মে এই শ্লোগানটি ব্যবহারের কারণে এটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক সমাবেশে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি শুনলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ অপকর্ম শ্লোগানটিকে বিতর্কিত করেছে। শ্লোগানটির অপব্যবহার মহান আল্লাহর বড়ত্বের প্রতি চরম অবমাননাকরও বটে।

‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগানটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারকারী দলগুলোর সাথে বিএনপির সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা একসাথে রাজনীতিও করছে। ঐ শ্লোগানধারী দলগুলো দ্বার কখনো আক্রান্তও হয়নি। এরপরও তারা এটিকে ভয় পায়। তাদের ভয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তারা বিতর্কিত হয়ে পড়বে। কিন্ত আওয়ামী লীগ বা প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগানধারী রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে নির্যাতিত হয়েছে। তাদের হাতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরা হতাহত হয়েছে। ঐসব ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলের কাছে জনমানুষের সৃজনশীলতা, প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থা, মুক্ত চিন্তা, মুক্ত বুদ্ধির চর্চা সবকিছুই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগ তাদের ভয় পায়।

কোন রাজনৈতিক দল হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন, রগকাটা ইত্যাদি অপকর্ম করে ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান দিলেও তাদের কর্মকাণ্ড সমর্থন কারার কোন সুযোগ নেই। নানা অপকর্মের কারণে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ভাবে ‘নারায়ে তকবির’ শ্লোগান দেওয়ার বিরোধিতা করে। আওয়ামী লীগের এই বিরোধিতা কখনো মহান আল্লাহর বরাত্ব প্রকাশের বিরুদ্ধে নয়। তাদের বিরোধিতা শ্লোগানটির ব্যবহার করে যারা নিজেদের অপকর্ম জায়েজ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে। যারা সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কলুষিত করে তাদের বিরুদ্ধে। ধর্মীয় সমাবেশে ‘নারায়ে তাকবির’ শ্লোগান দেওয়া হলে কারোই কোন অভিযোগ নেই। বরং বিভিন্ন মিলাদ মাহফিল, জুলুস বা তাফসীর মাহফিলে এই শ্লোগান দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে সমাদৃত।


লেখা: আবদুল মোমেন।  

Most Read

Popular News